রেজাউল হক, রামগতি ব্যুরো চীপ: লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নিরীহ একটি পরিবারকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে ভুক্তভোগী পরিবার। তাঁদের দাবি, অগ্নিকান্ডের সঙ্গে তাদের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা না থাকলেও উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে তাঁদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে এবং মিথ্যা অভিযোগে জড়ানোর চেষ্টা করছে প্রতিপক্ষের লোকজন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর ২০২৬ইং) সকালে রামগতি উপজেলা সাংবাদিক ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনির উদ্দিন বলেন, গত ২৮ অক্টোবর রাত সাড়ে নয়টার দিকে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের আবদুল আওয়াল নামের এক স্কুল শিক্ষকের বসতবাড়িতে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় মনির ও তার ছেলে ফিরোজ উদ্দিন স্থানীয় আলী আকবর হাজিরহাট বাজার থেকে তাদের বসতবাড়িতে আসছিলো। বাড়িতে প্রবেশের সময় হঠাৎ আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে আগুন লাগার শোর চিৎকার শুনে তারাও আগুন নেভাতে যায়। একদিন পর হঠাৎ মনির ও তার ছেলে ফিরোজ উদ্দিন সহ পরিবারের অন্য সদস্যদের নামে মামলা দিয়ে তাদেরকে ফাঁসাতে ষড়যন্ত্র করে প্রতিপক্ষ আব্দুল আউয়াল। মামলা দিয়ে হয়রানি করাসহ হুমকি ধামকিতে তারা আতঙ্কিত। বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন মনির।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মনির বলেন, তার ১৬ শতাংশ জমি আব্দুল আউয়ালের দখলে। ওই জমির বিরুদ্ধে মনির আদালতে দুইটি মামলা দায়ের করলে আদালত ২৭ অক্টোবর ওই জমির উপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ২৮ অক্টোবর রাতে আব্দুল আউয়ালের বাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে প্রভাবিত করার জন্য পূর্ব শত্রুতা উদ্ধার করতে মনিরের পরিবারকে হয়রানি করার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধান না করেই একটি পক্ষ তাঁদের দায়ী করার চেষ্টা করছে। এতে পরিবারটি সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন।
তারা আরও বলেন, একটি মহল পূর্বশত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে অগ্নিকান্ডের ঘটনাকে পুঁজি করে তাঁদেরকে ফাঁসানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তাঁরা এ ধরনের অপপ্রচার ও হয়রানির তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
প্রসঙ্গত গত ২৮ অক্টোবর রাত নয়টার দিকে উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের টুমচর গ্রামের আবদুল আওয়াল নামের এক সাবেক স্কুল শিক্ষকের বসতবাড়িতে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।
এবিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল আওয়ালের ছেলে মো. রাজু বলেন, মনিরের সাথে তাদের জায়গা জমি নিয়ে বিরোধ চলেছে। এ বিরোধকে কেন্দ্র করে মনির ও তার ছেলে ফিরোজ মিলে তাদের বসতবাড়ীতে আগুন লাগিয়েছে বলে ধারণা করছি। এ ঘটনায় তারা ন্যায় বিচার চান।
রামগতি থানার ওসি লিটন দেওয়ান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রমাণ না থাকলে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়। অনেক সময় অসতর্কবসত এমন দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। নিরাপরাদ কোন নিরীহ মানুষকে হয়রানি করলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Md Rassel Patwary