ঢাকা | বঙ্গাব্দ

কমলনগরে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন, নেতৃত্বে যুবদল নেতা

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Oct 14, 2026 | ফটো কার্ড | সংবাদটি দেখেছেন: 174
কমলনগরে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন, নেতৃত্বে যুবদল নেতা ছবির ক্যাপশন : কমলনগরে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন, নেতৃত্বে যুবদল নেতা

মোহাম্মদ ছাইফ উল্লাহ হেলাল, কমলনগর (লক্ষ্মীপুর) প্রতিনিধি: ‎ইলিশ রক্ষায় সাগর-নদীতে ৮ অক্টোবর থেকে ২৯অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে সরকার। ডিমওয়ালা মা ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন করতেই এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। আর নিষেধাজ্ঞা চলাকালে যাতে কেউ সাগর বা নদীতে নামতে না পারে সেজন্য থাকবে মৎস্য বিভাগ, বনবিভাগ, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী ও নৌপুলিশের বিশেষ নিরাপত্তা টহল। সেই সাথে চালানো হবে অভিযান ও মোবাইল কোর্ট। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ এই সময়ে মাছ শিকার, পরিবহণ, মজুদ ও বাজারজাতকরণ করলে তাদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠিন ব্যবস্থা।


মেঘনা নদীর চাঁদপুরের ষাটনল থেকে আলেকজান্ডার পর্যন্ত ৩১ কিলোমিটার এলাকাও এ নিষেধাজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত। অথচ লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার মতিরহাট এলাকায় নিষেধাজ্ঞার প্রথম দিন থেকে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদল সভাপতি হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেনের নেতৃত্বে ৮টি নৌকা প্রতিনিয়ত নদীতে মা ইলিশ শিকারে ব্যস্ত সময় পার করছে । ফলে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য।


‎সরকার দলীয় লোকজন মৎস্য কর্মকর্তা, কোস্টগার্ডসহ স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এ সব অপকর্ম করছেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছেন।


‎জানা যায়, অভিযানের প্রথম দিন থেকে যুবদল নেতা হুমায়ুন কবির ও ফারুক হোসেন দুই বেলা নদীতে নৌকা পাঠাচ্ছেন। মেঘনায় প্রচুর পরিমানে ডিমওয়ালা মা ইলিশ থাকায় গত ৫দিনে একেকটি নৌকায় ১৫ থেকে ২০লাখ টাকার করে মাছ বিক্রি করছেন।


‎সরেজমিন উপজেলার মতিরহাট গিয়ে দেখা যায় মেঘনা নদীতে আটটি নৌকা মাছ ধরছে। সন্ধ্যার নামার পর নৌকাগুলো মাছ নিয়ে আসছে। পরে মতিরহাটের দক্ষিণ পাশে প্রকাশ্যে নিলামে বিক্রি করছে জেলেরা। ওই সময় দেখা যায়, লক্ষ্মীপুরসহ দুর দুরান্ত আসা লোকজন মাছ কিনে বাড়ি ফিরছেন।


‎স্থানীয়রা জানান, মেঘনা নদীতে সরকার নিষেধাজ্ঞা দিলেও সরকার দলীয় লোকজন মানছে না। এভাবে প্রকাশ্যে মাছ ধরা এবং বিক্রি অতীতে কেউ এমন দেখেনি। নিষেধাজ্ঞার মুহূর্তে এভাবে নির্বিচারে মা ইলিশ নিধন হলে আগামীতে মেঘনায় ইলিশ শূন্য হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান অনেকেই ।


‎এদিকে চরকালকিনি ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি হুমায়ুন কবিরের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও তাকে পাওয়া যায়নি।


‎এবিষয়ে কমলনগর কোস্টগার্ড কন্টিজেন্ট কমান্ডার নুরুল আবছার জানান, নদীতে মাছধরার বিষয়টি তার নলেজে নেই। প্রতিদিনই তাদের টহল অব্যাহত আছে বলে জানান তিনি।


‎কমলনগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা তূর্য সাহা বলেন, মতিরহাটের মাছধরার বিষয়টি নিয়ে আমাদের আলোচনা হচ্ছে । উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে অভিযান পরিচালনা করা হবে।


‎লক্ষ্মীপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন, মতিরহাটে মাছ ধরার বিষয়টি আমি শুনেছি। খুব শীঘ্রই জেলা প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Md Rassel Patwary

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন

কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স পরিদর্শন করেন সিভিল সার্জন